২৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি : বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) সোমবার, সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য স্মারকলিপি পেশ করেছেন। সমিতির পক্ষে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত জনতার সরকার শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষকের প্রতিনিধিত্বকারী একটি রেজিস্টার্ড পেশাজীবী সংগঠন। সরকারি মাধ্যমিকে পদোন্নতিযোগ্য পদ মাত্র ৪% হওয়ায় দীর্ঘ ৩২-৩৩ বছর চাকরি করেও অধিকাংশ শিক্ষক পদোন্নতি ছাড়াই অবসর নেন। এছাড়া পদোন্নতি অনিয়মিত থাকায় অনেক পদ খালি থাকে, যা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।

স্মারকলিপিতে পাঁচটি মূল দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথম দাবি হলো স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা। মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় এটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। ইতিমধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষাকে গতিশীল করতে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।
দ্বিতীয় দাবি হলো সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করে চার স্তরীয় পদসোপান সৃষ্টি করা। সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা অন্যান্য সমমর্যাদার পদগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে, যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এই বৈষম্য দূর করতে তাদের এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন।
তৃতীয় দাবি হলো আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পুনর্বহালসহ মাধ্যমিকের সকল কার্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষা করা। আঞ্চলিক উপপরিচালকের কার্যালয় ঐতিহাসিকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার সাথে জড়িত, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে তাদের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঋণাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
চতুর্থ দাবি হলো বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিকে অনেক শূন্য পদ রয়েছে, যা পদোন্নতি জটিলতা সৃষ্টি করছে।এসব পদ পূরণ করা হলে শিক্ষকদের পদোন্নতি সমস্যার সমাধান হতে পারে।
পঞ্চম দাবি হলো বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরী আদেশ প্রদান। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকগণ বছরের পর বছর ধরে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এমনকি উচ্চ আদালতের রায় সত্ত্বেও এই দাবি পূরণ হয়নি। দ্রুত এই বকেয়া পরিশোধ করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সিলেটের জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক হেপী বেগম, সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরজাহান খানম চৌধুরী, দক্ষিণসুরমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুচরিতা দাস, সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ নুরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, লিটন চন্দ্র দেবনাথ, মো. আবুল খায়ের, শওকত হোসেন, আবু নছর মোহাম্মদ সুফিয়ান, জয়নাল আবেদীন খান, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এবং মো. শহীদুল আলম। তারা সকলেই বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষে এসব দাবি সমর্থন করেন।