৭ আগস্ট ২০২৫, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
ডা. মাহমুদা মিতু দাবি করেছেন যে তার বর্তমান ফেসবুক আইডিটি মূলত একটি “ফেইক আইডি” ছিল, যা তিনি ২০১২-২০১৩ সালের দিকে অপরিপক্ক ও আবেগী মন নিয়ে খুলেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল সে সময় শাহবাগ আন্দোলনকারী, নাস্তিক এবং তার মতে, ইসলামবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোন কালেই তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতে যুক্ত হবেন বলেও স্বপ্নেও ভাবেননি।
মিতু বলেন, শাহবাগ আন্দোলনের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ন্যারেটিভের বিরোধিতা করতে করতেই তিনি রাজনীতি বুঝতে শুরু করেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি শেখ হাসিনাকে ঘৃণা করতে শিখেছেন বলে উল্লেখ করেন। শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সেই সময়কার নাস্তিক ও ইসলামবিরোধীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেই তার মধ্যে প্রতিবাদী চেতনা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তার দাবি।
তিনি তার ফেসবুক জীবনের ১৪ বছরকে “দাগ কাঁটা” বলে আখ্যায়িত করেন, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তার মতে, ইসলামপন্থীদের উপর অত্যাচারের ঘটনাবলি। তিনি নিজেকে সে সময় জিন্স প্যান্ট পড়ে ঘুরে বেড়ানো একজন মেয়ে হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি বিবেকের তাড়নায়ই শাহবাগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। মিতুর মতে, ২০১৩ সালের ৫ মে (২৪ শে বৈশাখ) এর ঘটনা তার জন্য ট্রমাটিক, ঠিক যেমন ট্রমাটিক ছিল সে সময় ইসলামপন্থীদের উপর অত্যাচারের ভিডিও, ছবি, “ডাইনী” বলে ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর রং ছিটানোর দৃশ্য কিংবা বিশ্বজিৎ দাসকে পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য। তিনি বলেন, সেই সময় থেকেই একটি যুদ্ধ চলমান রয়েছে।
মিতু অভিযোগ করেন, এসব কথা বললেই তাকে জামায়াতি, ইসলামি আন্দোলন বা হেফাজতের লোক বলে ট্যাগ দেওয়া হয়। গত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে তার ১৪ বছরের ফেসবুক জীবনে তাকে হাজারবার “রাজাকার” বলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি জোর দিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে (২৪ শে বৈশাখ) মানুষ শহীদ হওয়ার পর, শাহবাগীদের সেই পুরনো আওয়ামী ন্যারেটিভকে আর কোনভাবেই প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। তার মতে, ১৯৭১ এর চেতনা সবার হলেও, একাত্তরকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার বানানোর দিন ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, “চেতনার মন্দির ৩২” কে ঘৃণার সাথে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একইভাবে নতুন করে গড়ে ওঠা “চেতনাব্যবসাও” গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মিতু দাবি করেন, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের “রাজাকার ন্যারেটিভ” ধারণ করা কোন খুদ্রগোষ্ঠী এবং আওয়ামী লীগের কালচারাল সেলের গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে এবং এই দমন চলমান রাখতে হবে। তার মতে, শাহবাগের যে ন্যারেটিভ বাংলাদেশের শিশু-কাচ্চারাও ঘৃণা করে, সেই ন্যারেটিভকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা মানে আওয়ামী লীগের কালচারাল সেলকে সক্রিয় করার চেষ্টা মাত্র।