শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০ জুন ২০২৫, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

ছাতকে নৌপথে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯টি বালু বোঝাই নৌকাসহ আটক

আপডেট টাইম : জুন ২০, ২০২৫ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের ছাতকে নৌপথে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯টি বালু বোঝাই নৌকাসহ ৭ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের এমদাদ নগর গ্রামের চৈলতার ঢালা সংলগ্ন গোয়াপাকুরা হাওর এলাকায় ছাতক সেনাবাহিনী ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মুহতাসিম আহনাফ শাহরিয়ার ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বালু বোঝাই ৯টি নৌকাসহ ৭ জনকে আটক করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বালু খেকো চক্র অস্ত্রের মহড়া দিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বোমা মেশিন ও ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। প্রভাবশালীরা নদী থেকে বালু লুটপাট চালাচ্ছেন। থানার পুলিশ প্রতিদিন সোনাই নদীসহ বিভিন্ন নৌপথে সাদা পোশাকে নৌকা থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন একেকটি পয়েন্টে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বালু লুটপাট করা হচ্ছে। এ টাকার একটি অংশ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন মহলের পকেটে যায়। সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন না করে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করায় হাজারো শ্রমিক তাদের কাজ হারাচ্ছে। এতে নদী তীরের ৫ শতাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা এবং কয়েকশ’ একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। দৌলতপুর, নাছিমপুর, শারপিননগর, রহিমের পাড়া, সোনাপুর, কাজিরগাঁও, পূর্ব লুভিয়া, চাইরগাঁও, রহমতপুর, দারোগাখালি, বাহাদুরপুর, গোয়ালগাঁও ও নোয়াগাঁওসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের রাস্তা, ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রায় ৯ শতাধিক বাড়িঘর নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

এসব বালু লুটপাটের ঘটনায় যৌথ বাহিনী ইসলামপুর ইউনিয়নের গোয়াপাকুরা বিলে অভিযান চালিয়ে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলনের সময় ৯টি ইঞ্জিনচালিত স্টিলের নৌকাসহ ৭ জন শ্রমিককে আটক করে। এ সময় ১০ হাজার ২০০ ঘনফুট বালুও জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের ছোট ঘাগটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে মোশাহিদ মিয়া (৩৫), একই উপজেলার নুরপুর গ্রামের জমিদার পাঠানের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), সাচনা ইউনিয়নের সদরকান্দি গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে রমজান আলী (২৪), দুর্লভপুর গ্রামের তাজু মিয়ার ছেলে মাইনুদ্দিন (২৮), সাচনা ইউনিয়নের আব্দুল আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (২৭), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ফুলডরি গ্রামের মোদাব্বির আলীর ছেলে নবাব মিয়া (৩২) এবং একই ইউনিয়নের কৌয়া গ্রামের মৃত হরে কৃষ্ণ দাসের ছেলে বকুল দাশ (৫৫)।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন