১৬ মে ২০২৫, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পূর্ব লন্ডনের বুকে সাহিত্যের উষ্ণ নিঃশ্বাসে প্রমাণিত হলো—শিকড় আজও জীবন্ত, প্রাসঙ্গিক ও প্রত্যয়দীপ্ত। শিকড় সাহিত্য পত্রিকার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৪ মে, বুধবার সন্ধ্যায়, পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক বাংলা টাউনে অবস্থিত দর্পণ বুকক্লাবে এক অনন্য কবিতা সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
শিকড় শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি একটি প্রাণবন্ত সাহিত্যিক আন্দোলন, যা বাংলা ভাষার মর্যাদা ও শক্তিকে বিলেতের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সময়ের ব্যস্ততায় রজতজয়ন্তী ঠিক সময়ে উদযাপন না করতে পারলেও, বছরজুড়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই উপলক্ষকে স্মরণীয় করার প্রচেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন শিকড়ের প্রতিষ্ঠাতা ও কবি ফারুক আহমেদ রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি ও গল্পকার শামীম আজাদ এবং ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতনামা কবি স্টিফেন ওয়াটস। কবি কাবেরী মুখার্জী-র সুললিত উপস্থাপনায় সন্ধ্যাটি হয়ে উঠে আবেগময়।
বিলেতের প্রবাসী বাঙালি কবি ও ইংরেজি সাহিত্যের কবিরা এক মঞ্চে মিলিত হয়ে কবিতার মাধ্যমে সময়, স্মৃতি, সমাজ ও স্বপ্নকে স্পর্শ করেন। কবিতা পাঠকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শামীম আজাদ, গোলাম কবির, আতাউর রহমান মিলাদ, মজিবুল হক মনি, দিলু নাসের, মাশুক ইবনে আনিস, স্টিফেন ওয়াটস, ডেভিড লি মর্গান, জন স্নেলিং, জেনিফার জনসন, ইকবাল হোসেন বুলবুল, মোহাম্মদ ইকবাল, শামীম আহমদ, মোসাইদ খান, আজিজুল আম্বিয়া, একেএম আব্দুল্লাহ, ফয়জুর রহমান ফয়েজ, কাবেরী মুখার্জী, উদয় শংকর দুর্জয়, ধনঞ্জয় পাল, নীলা নিকি খান, হাফসা ইসলাম, দিলরুবা ইয়াসমিন, বদরুল চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, সাদিকা সিদ্দিক, সালমা বেগম, তাসনিয়া আহমেদ রূপন্তি
এছাড়াও, আবৃতিকার স্মৃতি আজাদ ও সায়মন ক্যাম্পসন কবি ফারুক আহমেদ রনির ইংরেজি ও বাংলা কবিতা পরিবেশন করেন।
১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে শিকড় আজ একটি বৈশ্বিক সাহিত্য প্ল্যাটফর্ম। এর সহযোগী সংগঠন গ্লোবাল পয়েটস অ্যান্ড পোয়েট্রি বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করছে। শিকড়ের বৈশিষ্ট্য হলো তার অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, যেখানে নবীন-প্রবীণ সকলের কণ্ঠস্বর সমান গুরুত্ব পায়।
পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি শিকড় নিয়মিত আয়োজন করে সাহিত্যসভা, পাঠচক্র, বইমেলা ও আন্তর্জাতিক কবিতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এই বছর লন্ডন, ঢাকা ও কলকাতায় বিশেষ সাহিত্য সম্মেলনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
শিকড়ের শেকড় যেন আরও গভীর হয়, বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের দিগন্তে যেন তার বিস্তার ঘটে—এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।