শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৩ মে ২০২৫, ৫:৫০ অপরাহ্ণ

জৈন্তাপুরের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: জেলা প্রশাসক

আপডেট টাইম : মে ১৩, ২০২৫ ৫:৫০ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পর্যটন খাতের উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। তিনি বলেন, “জৈন্তাপুর একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন বান্ধব উপজেলা। আজকের সভায় যেসব সমস্যা ও প্রস্তাবনা উঠে এসেছে, সেগুলো সমাধানে সরকার গুরুত্ব সহকারে কাজ করবে। তবে শুধু সরকার নয়, স্থানীয় জনগণকেও পর্যটন খাতের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। জৈন্তাপুরের পর্যটন সম্পদ এখানকার মানুষের নিজস্ব সম্পদ। এর প্রচার ও রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র জৈন্তাপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদ, কিন্তু এর প্রচারণা কম। এছাড়া অনাবাদি পাহাড়ি জমিতে ফলজ কৃষি উন্নয়ন ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। শাপলা বিলের রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য উপজেলা এলজিআরডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও তাগিদ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিলেট হোসাইন মোহাম্মদ আল-জুনায়েদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জৈন্তাপুর মিজ ফারজানা আক্তার লাবনী, জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএফএইচপিও ডাঃ এ মোহাম্মদ ফারুখ।

সভায় জৈন্তাপুরের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা উঠে আসে। লালাখাল ও সারীনদী এলাকায় পর্যটন বান্ধব উন্নয়ন, ডিবিরহাওড় লাল শাপলা বিলের রাস্তার দ্রুত সংস্কার, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ডাস্টবিন স্থাপন, চা-বাগান সংলগ্ন টিলাগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা, দরবস্ত এলাকায় নৌকাঘাট নির্মাণ এবং চারিকাটা ইউনিয়নে পাহাড়ি এলাকায় আনারস ও লেবুর চাষ করে আকর্ষণীয় করে তোলার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া জৈন্তা রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মেঘালিথ পাথর সংরক্ষণ ও জৈন্তেশ্বরী রাজবাড়ীর উন্নয়নেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলি, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমেদ, ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির খান।
আরো উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাসিনুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী একেএম রিয়াজ মাহমুদ, সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা অলিউর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেন্টু পুরকায়স্থ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদ হাসান, আবাসিক প্রকৌশলী সজল চাকলাদার, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নাজমা বেগম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, সমবায় কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন, খাশিয়া সেবা সংঘের সভাপতি সুরঞ্জিত রাম্ভাই, ছাড়াও শিক্ষকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বদিউল আলম, নুর উদ্দিন, ফয়জুল হক সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সহ অন্যান্যরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন