বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১২ মে ২০২৫, ৭:১৬ অপরাহ্ণ

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট টাইম : মে ১২, ২০২৫ ৭:১৬ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচার ও আসামীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে কলেজের প্রধান ফটকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কলেজের গণিত বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাহান সাইফের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সিলেটের বিভাগীয় প্রতিনিধি সৈয়দ আকরাম আল সাহান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রুহুল ইসলাম, প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ ইসমাইল, বিএসএস ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার এবং বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম প্লাবন প্রমুখ।

শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, এমসি কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ধর্ষণের শিকার শুধু একজন নারীই হননি, বরং এটি সমগ্র নারী সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কলঙ্কজনক। তারা আরও বলেন, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এই ঘটনার বিচার করতে দেয়নি এবং বরং এটি আপোষে শেষ করতে চেয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচার শেষ করে আসামীদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে তারা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এসময় বিএসএস ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, ছাত্রলীগের সদস্যরা ক্যাম্পাসে মেয়েদের বলতো যে, কোনো সমস্যা হলে তাদের জানাতে, কিন্তু পরে ইনবক্সে গিয়ে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করতো। তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং দ্রুত তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (২০) দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং বিচারক স্বপন কুমার সরকার পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৩ মে নির্ধারণ করেন।

শেয়ার করুন