২৮ জুলাই ২০২৩, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
নিউজ ডেস্ক :: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এম পি বলেন,২০৩০ সালের মধ্যে সরকার দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেবে।এটি আমাদের অঙ্গীকার। ইতোমধ্যে দেশের মানুষের জীবন মানের উন্নতি হয়েছে।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে। কিছু কুলাঙ্গারের কারণে তা হয়নি।বর্তমানে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করছেন।
আব্দুল মোমেন এম পি শুক্রবার বিকেলে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সভায় এসব কথা বলেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,দারিদ্র একটি অভিশাপ।যারা গরীবের ঘরে জন্ম নিয়েছেন তারা এটি ভাল করে বুঝে।তিনি বলেন,বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে খুব সহজেই শিক্ষা অর্জন করা যায়। আমি ৩৩ বছর বিদেশে ছিলাম।সেখানে শিক্ষকতাও করেছি।সেখানে খুব কম লোক উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে।ব্যয়ববহুল শিক্ষাব্যবস্থা।উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য কর্জ করে পড়াশোনা করতে হয়।পরবর্তী জীবনে এটি পরিশোধ করতে অনেক বেগ পেতে হয়। যা সুখকর নয়। এদিক দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।শিক্ষায় স্কলারশিপ আমরাও দেই।তারাও দেয়,তবে কাজের বিনিময়ে।তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক লোক ট্যাক্স দেয় না,যাদের দেয়া উচিত।এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন,বর্তমান সরকার গরীবের বন্ধু,দেশের বন্ধু, ছাত্র-ছাত্রীর বন্ধু,জনগণের বন্ধু।ইদানিং কিছু দুষ্টু প্রকৃতির লোক দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।তারা দেশের জনগণকে বিশ্বাস করে না।দেশের জনগণের উপর এসব কুলাঙ্গারদের আস্থা নেই।এদের কারণে অনেক দেশ আমাদের উপর মাতুব্বরী করছে।বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ দেশকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে। আর ঐ বিদেশীদের ফোকাস করে,স্কোপ দেয় মিডিয়া।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,বিদেশীদের মাতুব্বরীর কারণে আফগানিস্তান,লিবিয়া ধ্বংস হয়েছে। আড়াইশো বছর আগে মীর জাফরের এই দেশও বিদেশীরা দখল করেছিলো। তিনি বলেন, বিদেশী কোন শক্তি কখনো দেশের উপকারে আসবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জাতির বিবেক উল্লেখ করে বলেন,দেশ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা ও জাতি গঠনে মিডিয়ার বিরাট দায়িত্ব আছে।লেখনীর শক্তি অনেক। কলম সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন,আজকে দেশকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে।অথচ নিকট অতীতে মিডিয়ার ভূমিকার কারণে অনেক উন্নয়ন হয়েছে।তিনি বলেন, উপনিবেশবাদকে মিডিয়া থেকে পরাভূত করতে হবে।ঔপনিবেশিক চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।তিনি বলেন,আজ ফেসবুকে দেখলাম একজন নামকরা যুৎসই সাংবাদিক আমার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে লিখছে আমি না কি নিউইয়র্কে বিল্ডিং তৈরী করছি।পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদকে একজন “কুলাঙ্গার” আখ্যায়িত করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন,সত্য তথ্য থাকলে নিয়ে আসুন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,সরকার সবসময় যে ঠিক ঠিক কাজ করে তা আমরা বলছি না।আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করুন। ইতিবাচক কিংবা অবজেকটিভিটি(বস্তুনিষ্ঠতা) সংবাদে থাকলে কারো কোন আপত্তি নেই। তিনি মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী অপসাংবাদিকদের প্রতিহত করতে সাংবাদিকদের আহবান জানান।
নিবন্ধিত অনলাইন গণমাধ্যম দৈনিক সিলেট সম্পাদক ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও এতে আরো বক্তব্য রাখেন,সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গোলজার আহমদ হেলাল,ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য শ্রী আশীষ দে,ক্লাব সদস্য মো: আলমগীর আলম,এম এ ওয়াহিদ চৌধুরী, আব্দুল হাসিব প্রমুখ।দৈনিক সিলেট আয়োজিত বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে পোর্টালের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নিজস্ব প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।