১৩ মার্চ ২০২৫, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি: ২৯ জুলাই ২০২৪, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে। সিলেটের তেমুখি পয়েন্টও সেই উত্তাল দিনের সাক্ষী। বিকেল ৩টা থেকে দফায় দফায় পুলিশ ও ছাত্র-জনতার সংঘর্ষে আহত হন অনেকেই। তাদের মধ্যে একজন হলেন হাবিবুর রহমান, যিনি সিলেটের খালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
হাবিবুর রহমানের ডান চোখ ও শরীরে অসংখ্য গুলি লাগে সেই দিন। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ আহতই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেননি, পুলিশের ভয়ে। হাবিবুরও লোকাল ফার্মেসি থেকে কিছু ওষুধ কিনে খেয়ে ছিলেন। গুলির যন্ত্রণায় কাতর হয়ে তিনি নিজেই সেপ্টিন দিয়ে শরীর থেকে গুলির টুকরো বের করার চেষ্টা করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৪ আগস্ট তিনি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চোখের ৭টি অপারেশনসহ শরীরের চিকিৎসা নেন।
হাবিবুর রহমান একটি দরিদ্র পরিবারের সদস্য। তার পরিবারে পিতা সিরাজ উদ্দিন, মা সুর্য বানু, স্ত্রী ও দুটি ছোট শিশু সন্তান রয়েছে। পিতা দুচোখে দেখেন না, মা অসুস্থ এবং একটি হাত ভাঙা। হাবিবুর প্রাইভেট কার চালিয়ে সংসার চালান। কিন্তু চোখে গুলি লাগার কারণে তিনি এখন ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারেন না, যা তাদের সংসারের আয়ের প্রধান উৎস।
গত ১৫ নভেম্বর সদর উপজেলা থেকে ৫ হাজার টাকার একটি অনুদান পেলেও, হাবিবুরের পরিবার এখনও কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পায়নি। জুলাই বিপ্লব ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য তারা পাননি। এই পবিত্র রমজান মাসেও তারা শাক-সবজি খেয়ে রোজা রাখছেন। বাসা ভাড়া ও সংসার খরচ মেটানো তাদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
হাবিবুর রহমানের পরিবারের এই দুঃসহ জীবনযুদ্ধে আমাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও দুটি শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি তাদের সহযোগিতা করতে চান, তাহলে হাবিবুর রহমানের বিকাশ নম্বর: ০১৭৩৫০২২১৬৬।
এই সংকটময় সময়ে হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই।