২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা : শুক্রবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ পারভীন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের চেয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাঙালি তার মাতৃভাষা রক্ষার জন্য ১৯৪৮ সাল থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম প্রতিবাদ শুরু করেছিল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে পূর্ণতা আনতে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি শাসকদের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় জাতির জনকের অবদান অনস্বীকার্য।”
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, “আমরা সেই জাতি, যারা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।” তার এই বক্তব্য অনুষ্ঠানে সরাসরি কোনো প্রতিবাদ না উঠলেও, সভা শেষে তার বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার বক্তব্যকে “স্বৈরাচারী মনোভাব” ও “আওয়ামী ফ্যাসিজমের প্রকাশ” বলে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মনিরুল ইসলামের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ পারভীনকেও তার সরকারি ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি পারিবারিক কারণে উপজেলার বাইরে থাকায় এই ঘটনা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।”
উল্লেখ্য, গত জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ঘটলেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস-আদালতে তাদের দোসরদের কর্মকাণ্ড ও স্বৈরাচারী মনোভাব এখনও পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় ওসমানীনগরে জনমনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
আলোকিত সিলেট / এসএস