বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ

সিলেটে হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য গ্রেফতার

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার : র্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন আফসার আহমেদ (২৫)। তিনি মকবুল আহমেদের ছেলে এবং সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার বাসিন্দা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানাধীন বাদে রণকেলী এলাকার বাসিন্দা। আব্দুল জলিলের সঙ্গে ভিকটিমের পূর্ব পরিচিতি ছিল। সেই সূত্রে আব্দুল জলিল ভিকটিমের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর জেসমিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিকটিমের কথাবার্তা চলছিল। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে ভিকটিম তার বন্ধুকে নিয়ে জেসমিন আক্তারের দেখা করতে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন যতরপুর এলাকার একটি বাসায় যান। সেখানে সকল বিবাদী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই বাসায় প্রবেশ করে ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিম ও তার বন্ধুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাদের ইলেকট্রিক শক দেয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাদের পরনের কাপড় খুলিয়ে উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় বিবাদীরা তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি রূপার চেইন ও একটি রূপার ব্রেসলেট নিয়ে যায়। পাশাপাশি তারা ভিকটিমের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে; অন্যথায় মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। মানসম্মানের ভয়ে ভিকটিম ও তার বন্ধু পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিকাশে ৯০ হাজার টাকা এনে বিবাদীদের দেয়। এই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি অভিযানিক দল গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানাধীন জাফলং ইউনিয়নের নলজুড়ী বাজারে অভিযান চালিয়ে আফসার আহমেদকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে এসএমপি সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানার এফআইআর নং-১৯/১৮৪, তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬, দণ্ডবিধির ৩৪২/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৪১১/৫০৬/৩৪ ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১) ধারায় মামলা রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে একই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন