,

4 October 2026, 5:46 PM

মা:তুফ্ফাহুল জান্নাত মারিয়া

আপডেট টাইম : October 4, 2026 5:46 PM



শেয়ার করুন

যেদিন আমার পেটের বাচ্চাটা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলো সেদিন আমি ভারী কম্বল ধুয়ে দিচ্ছিলাম।

তখনও জানতাম না আমার গর্ভে সন্তান এসেছে। শীত আসার আগেই কম্বল ভেজানো হয়েছিল। সেই ভেজানো কম্বল তোলার সময়ই ক্রমাগত রক্তক্ষরণ শুরু হলো।

সেই সাথে মনে হলো তলপেটে কেউ ছুরি ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমি হাউমাউ করে চিৎকার করে টিউবওয়েলের গোড়ায় বসে পড়লাম। চাচী শ্বাশুড়ি এসে টেনে তুললো।

কোনোমতেই রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় আল্ট্রাসনোগ্রাম দেয়া হলো। ইউরিন টেস্ট,ব্লাড টেস্ট সহ আরও কিছু পরীক্ষার পর জানা গেল চার বছর পর আমি সন্তানের মা হতে যাচ্ছিলাম। পিসিওএসের সমস্যা থাকায় পিরিয়ড অনিয়মিত ছিল সুতরাং গর্ভধারণের বিষয়টি না বোঝা ছিল স্বাভাবিক।

ডাক্তার নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেই ফেললো, নব্বই ভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যায় এই বাচ্চা সার্ভাইভ করবে না।

কথাটা শুনেই আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো৷ গলার কাছে কী যেন দলা পেকে বসে রইল। ডাক্তার তবুও সেই দশ পার্সেন্ট সম্ভাবনা নিয়েই পাতা ভরে ওষুধ লিখে দিলেন৷ নীল কালির সীল লাগিয়ে দিলেন ফুল বেড রেস্ট।

আমাদের দেশে ফুল বেড রেস্টের গোপনীয় নাম হলো আহ্লাদীপণা বা অহেতুক ঢং। পড়শীরা আর চাচী,মামী শ্বাশুড়িরা দিনে তিনবার এসে ফিরিস্তি শুনিয়ে যায় পেটে বাচ্চা নিয়ে তারা কে কত কাজ করেছে।

তারা ধান ভেনেছে, মাছ কুটেছে,কলসি ভরে পানি এনেছে, কামলাদের রেঁধে খাইয়েছে আরও নানা আলাপ।

আমি ওসব কানে না নিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখে দেখে মুড়ি মুড়কির মত ওষুধ খাই। পা টিপে টিপে আমি কেবল ওয়াশরুমে যাই। তিনবেলা একপ্লেট করে ভাত খাই।

অত সুখের কপাল গ্রামের বউদের নেই। কলুদ বলদের খেটে আসা বউ এখন বিশ্রাম নেবে আর সবাই প্লেটে করে ভাত এনে দেবে বিছানায় অমন সৌভাগ্য কতদিন আর রইবে?

বিছানায় শুয়ে থেকেই শ্বাশুড়ির বাঁকা বাঁকা কথা শুনতে পাই, পোয়াতি কি আর আমরা হই নাই? সারাদিন খালি শুইয়া থাকন আর খাওন।

এর সাথে তাল দিয়ে পাশের বাড়ির দূরসম্পর্কের দাদী শ্বাশুড়িও তাল দেন, অত শুইয়া থাকলে পোলাপান আতুর লেংড়া হইবো।

আমি শুনেও না শোনার ভান করি। আমার মাথায় কেবল ঘুরঘুর করতে থাকে মাত্র দশ পার্সেন্ট সম্ভাবনা৷

এই সন্তানটার জন্য আমি সমস্ত কটু বাক্য হজম করা শিখে গেলাম। অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়া আমি কিছুটা হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা রাখি।

কলুর বলদের মত খেটে আমি আমার সন্তানকে মহা বিপদের মধ্যে ফেলেছি আজ আমার বিপদে কেউ নেই৷

আমার স্বামী চাকরিসূত্রে তিনিও থাকেন টাঙ্গাইল জেলা সদরে। আর আমি পড়ে আছি মধুপুরের দূর্গাপুর নামক এই প্রত্যন্ত গ্রামে।

সারাটা রাত আমি ঘুমাতে পারি না। আহত পায়রার মত ছটফট করি। এক গ্লাস পানি দরকার হলেও কাউকে ডেকে তোলার সাহস আমার হয় না। একমাত্র ননদ ইচ্ছে করলে আমার সাথে থাকতে পারে কিন্তু থাকে না।

মাথা ঘুরে উঠলে মনে হয় সর্বোচ্চ মাত্রার এক ভূমিকম্পের শহরে দাঁড়িয়ে আছি। বমি করার সময় মনে হয় পৃথিবী দুলে দুলে উঠছে। সেই সময় আমার মাথায় পানি দেয়ার একটা কাক পক্ষী পাই না৷

পেট আর বুকের এই অসহ্য যন্ত্রণায় মনে হয় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। হাত -পায়ে মনে হত বিষাক্ত সাপ দংশন করেছে। পা তখন ওড়না দিয়ে বেঁধে রাখতাম।

এভাবে নির্ঘুম রাত কেটেছে কত! চোখের জলে বালিশটা ভিজে চ্যাপচ্যাপে হয়ে যেত। সৎ মায়ের সংসারের আমার যাওয়ার উপায় নেই।

এই পৃথিবীতে মানুষ চেনা যায় কেবল দুঃসময়ে। পৃথিবীর রঙের চেয়ে দ্রুত বদলায় মানুষের রূপ।

সপ্তাহে সপ্তাহে আমার স্বামী বাড়ি আসেন৷ একদিন কেঁদে কেঁদে বললাম, আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও নয়তো আমি মরে যাব৷ এই দুঃসাহসিক আবদার আমি আমার সন্তানের জন্য শিখে গিয়েছিলাম৷

সে আশ্বাস দিল খুব শীঘ্রই নিয়ে যাবে। তাকে একদিনের ঘটনা আমি সাহস করে বলেই ফেললাম।

পাঁচ মাস যেতে না যেতেই সকালের খাবার জুটতো দুপুরে আর দুপুরেরটা বিকালে। একদিন ক্ষিধের জ্বালায় ফ্রিজ খুলে দেখি একটা মুরগীর ডিম৷ ওটা ভেঙে বেশি করে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ আর বেশ খানিকটা সয়াবিন তেল দিয়ে একেবারে মচমচে করে ডিমটা ভাজি করলাম।

ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খাওয়ার সময় মনে হচ্ছিলো এর চেয়ে সুস্বাদু খাবার পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

ঝামেলা বাঁধলো যখন দেবরকে ডিম ভাজি করে দেয়ার সময় ডিমটা আর শ্বাশুড়ি খুঁজে পেল না৷

ওদিকে সেই বখাটে দেবর পাঁচ মিনিট দূরত্বের দোকান থেকে সামান্য একটা ডিম কিনে আনতে পারলো না। এর চেয়ে বরং সে ভাতের প্লেট ছুঁড়ে মারাকেই সহজ মনে করলো।

বাড়ি সুদ্ধো মানুষের কাছে একটা ডিম ভাজি খাওয়ার অপরাধে অপরাধী হলাম। শ্বাশুড়ি চিবিয়ে চিবিয়ে বলেছিলেন, বাড়ির বউ অত ছোঁচা হইলে হয় না। খাইছো ভালো কথা কইলেই হইত ডিম আইনা রাইখা দিতাম ইমদাদের জন্য।

এই ঘটনা শুনে আমার স্বামী আমাকে এক মাসের মধ্যে নিজের কাছে নিয়ে গেলেন। আমার তখন মনে হয়েছে আমার স্বামীর কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব, সে আমাকে একটা নরক থেকে উদ্ধার করেছে৷

মা হওয়ার সময় প্রত্যেক নারী যেমন খুব সহজে কাউকে ক্ষমা করে দেয় একই সাথে যারা তার সাথে অন্যায় করেছে তাদেরকে আজীবনেও ক্ষমা করতে পারে না। গর্ভধারণ নারীদের একাধারে কোমল ও কঠিন হতে শেখায়।

টাঙ্গাইল জেলা শহরে এসে আমি যেন জেল ফেরত আসামীর মত মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে গেলাম। আমার শরীর যদিও তখন ভীষণ রকম খারাপ থাকতো। হিমোগ্লোবিন কমে গিয়েছিল অনেকটা।

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! আমার শারীরিক জটিলতার জন্য আট মাসেই সিজারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে বারবার ভেসে উঠলো আমার মায়ের মুখ। আমাকে জন্ম দিতে গিয়েও তো মায়ের এত কষ্ট হয়েছে!
আলো ঝলমলে রুম। ডাক্তার, নার্স সহ আট/ নয়জন সেই রুমে।

একজন ডাক্তার সর্বক্ষণ আমার মাথার কাছে দাঁড়ানো ছিল। তিনি আমার মাথায় হাত রেখে অভয় দিলেন,আপনি ভয় পাবেন না আপা। অল্প কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকুন।

আমার সেই ডাক্তার নারীটিকে ভীষণ আপন মনে হলো! মনে হচ্ছিলো আমার সাথে কতদিন কেউ এত মায়াভরা কণ্ঠে কথা বলেনি। সাহস দেয়নি।

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট মোটা এক সুঁই মেরুদন্ডের নিচ দিকটায় দিল। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি আমাকে বললেন,আপনার পা নাড়ানোর চেষ্টা করুন তো।

না আমি কোনোমতেই আর পা নাড়াতে পারলাম না। আমার শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল। টুংটাং কাঁচির শব্দ শুনছিলাম।
সামনে একটা সবুজ পর্দা দেয়া।

অল্প কিছুক্ষণ পর মনে হচ্ছিলো আমাকে কেউ বালিশ চাপা দিয়েছে। কোনোমতেই আর নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমি ডাক্তারকে ডেকে অস্থির হয়ে বললাম, ম্যাডাম আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ আমি এক্ষুণি মারা যাব৷

ডাক্তার আমাকে অভয় দিয়ে বললেন, এটা অ্যানেস্থেসিয়ার প্রভাবে এমন হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

আমি ডাঙায় তোলা মাছের মত ছটফট করছিলাম। কামারের হাপড়ের মত শ্বাস কেবল উঠানামা করছিলাম। সামান্য বাতাসের জন্য শ্বাসকষ্টের রোগীরা যেমন ছটফট করে অমন ছটফটানি শুরু হলো আমার।

নাগরদোলায় উঠে নিচের দিকে নামলে যেমন মাথা ঝিম ঝিম করে তেমন লাগছিল। পুরো শরীর কাঁপছিল। আমি শুধু এইটুকু বলতে পারলাম, আমার খুব শীত লাগছে। তারপর আর কিছু মনে নেই।

যখন চোখ মেলি তখন দেখি আমার শরীরে হাজারটা যন্ত্রপাতি লাগানো। হাতে রক্তের ব্যাগ। স্যালাইন। দুইজন নার্স ছিল শুধু ওখানে। আমি তখন পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারে। আমার বুকটা ধক করে উঠলো। আমার বাচ্চাটা?

আমি একজন নার্সকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার বাচ্চা কোথায়?

উনি আমতা আমতা শুরু করলেন। আমার দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে গেল। আমার বুকের ভেতর কু ডাক দিল। মনে হয় আমার কলিজাটা আর নেই।

মায়েদের সমস্ত যন্ত্রণা এক নিমিষে দূর করার এক সম্মোহনী শক্তি নিয়ে একেকটা শিশু পৃথিবীতে আসে। সেই সন্তান যদি কোনো কারণে মায়ের কোল ছেড়ে চলে যায় সে উঠে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায়, দুর্ভাগা আর অসহনীয় কষ্টের অধিকারিণী।

আমি আকাশ, বাতাস ভারী করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম। অন্য একজন নার্স এসে আমার হাত ধরে বললেন,আপনি শান্ত হোন।

আপনার বাচ্চাটা এখনও বেঁচে আছে তবে ওর অবস্থা খারাপ হওয়ায় এন.আই.সি.ইউতে রাখা হয়েছে। আপনি এত অস্থির হবেন না। আপনার অবস্থাও তো খারাপ। আপনাকে প্রচুর রক্ত দিতে হয়েছে।

আমার ইচ্ছে করছিল আমি তখনই দৌড়ে ছুটে যাই এক পলক দেখে আসি। আমার উষ্ণতা ছাড়া ওখানে আছে কী করে?

পরেরদিন নাসির আমার কাছে এলো। ওর মুখ শুকনো। ওর মা-বাবা এসে দুই হাজার টাকা দিয়ে গেছেন। আমার দুই খালা দশ হাজার৷ সৎ মা এসে এক হাজার। আত্মীয়দের কাছ থেকে আমাদের সম্বল এতটুকুই। নাসির কিছু ধারদেনা করেছে কেবল।

আমি জানি লাখ টাকাও ধরা দেবে না এখানে। নাসির ওর মায়ের কাছে কেবল নিজের ভাগের এক টুকরো জমি বিক্রির কথা তুলতেই তিনি ফুঁসে উঠলেন, জমি বেঁচলে তোর ভিক্ষা করে খাইতে হইবো।

যাওয়ার সময় আরও মুখ বাঁকিয়ে বলে গিয়েছিলেন আমি বাড়ি থেকে চলে এসেছিলাম বলে সবার অভিশাপ লেগেছে নাকি।

বেসরকারি স্কুলের এক শিক্ষক কতই বা যোগাড় করতে পারবে?

আমি নাসিরের হাত ধরে বললাম, তুমি আমার সমস্ত গয়না বিক্রি করে দাও। এই পৃথিবীতে সম্বল তো সন্তানই। বাচ্চা না থাকলে গয়না দিয়ে কী করব? আলমারির কোন ড্র‍য়ারে গয়না রাখা ওকে বলে দিলাম।

আমার বাচ্চার চিকিৎসা চলতে থাকলো গয়না বিক্রির টাকায়৷

দুদিন পর আমি কাঁটা পেট নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম। প্রথমবার দাঁড়ানোর মুহূর্তে মনে হলো সবকিছু চিরে চিরে যাচ্ছে। বটি দিয়ে কেউ পেটের ভেতরটা ফালা ফালা করে দিচ্ছে যেন । কী অসহ্যকর যন্ত্রণা!

অত অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে আমি কাঁচের জানালা দিয়ে তাকিয়ে রইলাম। ভেতরে আমার ছোট্ট মেয়েটা। কত রকম যন্ত্রপাতি লাগানো৷ ওজন কম আর নিউমোনিয়া।

ডাক্তারদের কী আপ্রাণ চেষ্টা! নার্সদের দৌড়াদৌড়ি।
একেক সময় নার্স যখন আমার কাছে আসে আমি আতঙ্কে কেঁপে উঠি। উনি অভয় দেন। ফিডারে করে অল্প করে দুধ নিতে আসেন।

সারা রাত আমার ঘুম আসে না। কাঁদতে কাঁদতে দুচোখ ফুলে গেছে৷ সেই চোখ খোলার উপায় আর থাকে না।

গভীর রাত। করিডোরে তখন নিস্তব্ধতা। একজন মায়ের আকুল আর্জি সেই পরম করুণাময়ের কাছে। সেই কাঁচের ঘরের সামনে কী আকুল পায়চারি!

ঠিক যেমনটা পাখির ছানাকে খাঁচায় আটকে রাখলে মা পাখি এসে সেই খাঁচা ভেঙে উদ্ধারের চেষ্টা করে ঠিক তেমন। ব্যাকুল হয়ে মা পাখিটা ডাকতে থাকে। টিনের চালে বসে স্রষ্টার কাছে সন্তানের জীবন ভিক্ষা চেয়ে ফরিয়াদ জানায়।

আকাশ জুড়ে তখন বৃষ্টি নেমেছে যেন প্রকৃতিও মায়ের চোখের জলের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

দশটা দিন কীভাবে কেটেছে জানি না। ছোট খালা ছিল আমার সাথেই৷ জোর করে সেই মাঝে মাঝে একটু খাইয়ে দিয়েছে। খেতে গেলেও গলা দিয়ে নামতো না।

ডাক্তার আমার কাছে এলেন রাত দশটায়। নাসির তখন আমার কাছেই। ডাক্তারকে দেখেই আমি ধরফর করে উঠে বসলাম। আমার মুখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠলো। তিনি কি কোনো খারাপ সংবাদ নিয়ে এসেছেন? আমার হৃৎপিণ্ড তখন কই মাছের মত তড়পাচ্ছিলো।

ডাক্তার অভয় দিয়ে বললেন,আপনারা ভয় পাবেন না । আপনাদের বাচ্চা এখন সুস্থ আছে। আগামীকালই নিয়ে যেতে পারবেন।

এত আনন্দের সংবাদ আমার জীবনে বোধ হয় এর আগে আসেনি। আমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম। আনন্দের কান্না!

কিছুতেই এই রাতটা আর কাটছে না যেন। দশদিন পর আমি আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। উষ্কখুষ্ক চুল, ফোলা চোখ, ক্লান্ত মুখ তবুও সে কী খুশি আমার! সেলাইয়ের টানটান ব্যথা, ক্যানুলা করা হাতটা ফুলে একাকার হয়ে যাওয়া জীবনের সমস্ত ব্যথা এক নিমিষে যেন দূর হয়ে গেল৷

সেই রাতটা আমি প্রার্থনায় কাটিয়ে দিলাম।

সকাল দশটায় একটা মোমের পুতুল আমার কোলে দেয়া হলো। কী অপার্থিব সুখে আমার প্রাণ জুড়িয়ে গেল!

আমরা ক্লিনিক থেকে বের হলাম৷ ডাক্তারদের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতার শেষ ছিল না।

আমি বুকের মধ্যে আমার মেয়েকে জড়িয়ে নিলাম। আমার নাক,কান, গলায় কোনো গয়না নেই কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গয়না এখন আমার হাতে। একজন মায়ের কাছে সেই গয়না যতদিন থাকে ততদিন সেই হয় সমস্ত সম্পদের অধিকারিণী। এই সম্পদের জন্য হাসতে হাসতে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করতে পারেন কেবল মা।

লেখক:শিক্ষক ও গল্পকার,সাবেক শিক্ষার্থী-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ)

শেয়ার করুন