২১ জুন ২০২৫, ৮:২১ পূর্বাহ্ণ
আছমা জান্নাত মনি,বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য থেকে
আমি এখন থাকি ইউকের বার্মিংহাম শহরে। এখানে আছি কিছুদিন হলো। শহরটা পরিচ্ছন্ন, সাজানো, গোছানো—তবু কোথাও যেন এক ধরনের নীরবতা জড়িয়ে থাকে চারপাশে। কোনোদিন বিকেল বেলায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকলে মনে হয়, এখানে মানুষ হাঁটে ঠিকই, কিন্তু কারো মুখে কথা নেই, কারো চোখে চেনা আলোর ঝিলিক নেই।
এই শহরের বাইরে এখনো কোথাও যাওয়া হয়নি। একবার মাত্র গিয়েছিলাম লন্ডনে, ক্যানারি ওয়ার্ফ। উঁচু উঁচু দালান, কর্পোরেট মানুষের ব্যস্ততা, চকচকে ট্রেন, টেমসের পাড়—সব কিছু দেখে মুগ্ধ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি খুঁজছিলাম একটা ভাঙাচোরা চায়ের দোকান, একটা মাটির কাপ, কিংবা কেউ একজন হঠাৎ বলে উঠবে, “আপা, চা খাইবেন?”—যেটা হয়নি।
আমার জন্ম নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগনায়। যে মাটি এখনো আমার স্বপ্নে ধুলো উড়ায়। আমি সিলেটেও থেকেছি অনেকদিন—রাতবেলা লন্ডনী পরোটার দোকান, অথবা রিকশার ঘণ্টা—এসব এখন স্মৃতিতে সুর তুলে বাজে।
এখানে, বার্মিংহামে, সকালে ঘুম ভাঙে পাখির ডাক ছাড়া, আজানের সুর ছাড়া। জানালার কাঁচে ধুলো জমে, কিন্তু জানালার বাইরেটা যেন অচেনা এক জগৎ। কেউ কারও দিকে তাকায় না, কেউ “কেমন আছেন?” বলে না, কেউ চায়ের নিমন্ত্রণ দেয় না। আমার ভেতরে তখন একটা টান জাগে—শেকড়ের টান, ভাষার টান, মাটির টান।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি—প্রবাস জীবন কি শুধু উন্নত ভবিষ্যতের জন্যই? নাকি কিছু ত্যাগ, কিছু হাহাকার, কিছু নিঃশব্দ কান্নার নামও এই জীবন?
পরিবার সঙ্গে আছে, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়, এই “ভালো থাকা”য় কোথাও যেন শূন্যতা জমে আছে। একেকটা দিন এমন আসে, যখন নিজের ভাষায় বলা একটা কথার জন্য মন কাঁদে। মনে হয় কেউ যদি বলতো, “মনিরে, আইসো না একদিন”—এইটুকু শুনলেই যেন বুকটা হালকা হতো।
বাংলা আমার রক্তে। বিদেশে থেকেও প্রতিদিন বুকের মধ্যে বাংলাদেশ বয়ে বেড়াই—ভাষায়, রান্নায়, গানে, আর ছোট ছোট স্মৃতিতে। আমি জানি, আমি প্রবাসী। তবু আমি নিজের দেশকেই প্রতিদিন মনে করি “নিজের”—যেন আমি শুধু দূরে থাকি, ছেড়ে আছমা জান্নাত মনি
বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য
আমি এখন থাকি ইউকের বার্মিংহাম শহরে। এখানে আছি কিছুদিন হলো। শহরটা পরিচ্ছন্ন, সাজানো, গোছানো—তবু কোথাও যেন এক ধরনের নীরবতা জড়িয়ে থাকে চারপাশে। কোনোদিন বিকেল বেলায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকলে মনে হয়, এখানে মানুষ হাঁটে ঠিকই, কিন্তু কারো মুখে কথা নেই, কারো চোখে চেনা আলোর ঝিলিক নেই।
এই শহরের বাইরে এখনো কোথাও যাওয়া হয়নি। একবার মাত্র গিয়েছিলাম লন্ডনে, ক্যানারি ওয়ার্ফ। উঁচু উঁচু দালান, কর্পোরেট মানুষের ব্যস্ততা, চকচকে ট্রেন, টেমসের পাড়—সব কিছু দেখে মুগ্ধ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি খুঁজছিলাম একটা ভাঙাচোরা চায়ের দোকান, একটা মাটির কাপ, কিংবা কেউ একজন হঠাৎ বলে উঠবে, “আপা, চা খাইবেন?”—যেটা হয়নি।
আমার জন্ম নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগনায়। যে মাটি এখনো আমার স্বপ্নে ধুলো উড়ায়। আমি সিলেটেও থেকেছি অনেকদিন—রাতবেলা লন্ডনী পরোটার দোকান, অথবা রিকশার ঘণ্টা—এসব এখন স্মৃতিতে সুর তুলে বাজে।
এখানে, বার্মিংহামে, সকালে ঘুম ভাঙে পাখির ডাক ছাড়া, আজানের সুর ছাড়া। জানালার কাঁচে ধুলো জমে, কিন্তু জানালার বাইরেটা যেন অচেনা এক জগৎ। কেউ কারও দিকে তাকায় না, কেউ “কেমন আছেন?” বলে না, কেউ চায়ের নিমন্ত্রণ দেয় না। আমার ভেতরে তখন একটা টান জাগে—শেকড়ের টান, ভাষার টান, মাটির টান।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি—প্রবাস জীবন কি শুধু উন্নত ভবিষ্যতের জন্যই? নাকি কিছু ত্যাগ, কিছু হাহাকার, কিছু নিঃশব্দ কান্নার নামও এই জীবন?
পরিবার সঙ্গে আছে, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়, এই “ভালো থাকা”য় কোথাও যেন শূন্যতা জমে আছে। একেকটা দিন এমন আসে, যখন নিজের ভাষায় বলা একটা কথার জন্য মন কাঁদে। মনে হয় কেউ যদি বলতো, “মনিরে, আইসো না একদিন”—এইটুকু শুনলেই যেন বুকটা হালকা হতো।
বাংলা আমার রক্তে। বিদেশে থেকেও প্রতিদিন বুকের মধ্যে বাংলাদেশ বয়ে বেড়াই—ভাষায়, রান্নায়, গানে, আর ছোট ছোট স্মৃতিতে। আমি জানি, আমি প্রবাসী। তবু আমি নিজের দেশকেই প্রতিদিন মনে করি “নিজের”—যেন আমি শুধু দূরে থাকি, ছেড়ে আসিনি।
আছমা জান্নাত মনি:বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য
(দিনারপুর পরগনার এক মেয়ে)