শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২২ এপ্রিল ২০২৫, ৫:০৬ অপরাহ্ণ

সিসিকের প্রশাসক নয়, মেয়র আরিফের ২৬ মাস ফেরত দিন

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২২, ২০২৫ ৫:০৬ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

নুরুল হক শিপু , যুক্তরাজ্য থেকে : “আমার একটা ডায়লগ আছে, ধরে ধরে ধরে না, ধরলে আরিফ ছাড়ে না।” সিলেটের অপরাজিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর এই কথাটি তার দৃঢ়চেতা স্বভাবেরই প্রতিচ্ছবি। কেউ কেউ তাকে তুলনা করেন ওপার বাংলার সিনেমার নায়ক মিঠুনের ‘ফাটাকেস্ট’ চরিত্রের সঙ্গে। সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সঙ্গে তার মেলবন্ধন সিলেটবাসীর মুখে মুখে ফেরে— ‘জনতার কামরান, উন্নয়নের আরিফ’।

২০০১-২০০৫ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে, দেশজুড়ে জারি হয়েছিল কঠোর নিয়ম। রাত ১০টার পর শহরে চলাচল নিষিদ্ধ, লম্বা চুল দেখলে বেধড়ক কাটিং— এমনই এক অস্থির সময়ে মেয়র কামরান গ্রেপ্তার হন। শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের যুগ।

সময় বদলেছে। কামরান আজ আর নেই, কিন্তু সিলেটবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ মে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

২০০৮ সালের কথা। ২৬ মাসের জেল জীবন শেষে অসুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরেছিলেন মেয়র আরিফ। সেই সময়ের করুণ দৃশ্যের স্বাক্ষী ছিলেন অনেকেই— ঘরে অসুস্থ মা, জেলে অসুস্থ ছেলে। চিকিৎসা শেষে ২৮ মার্চ তিনি মেয়র পদে ফিরে পান। কিন্তু সেই আনন্দ মাত্র ৩ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। সেদিন একটি মাত্র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি— স্থানীয় সংবাদপত্র আমাদের সময়-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই আসে পদ স্থগিতের খবর।

এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি আবারও মেয়রের দায়িত্ব পান। কিন্তু প্রশাসনিক আমলাদের বাধার মুখে তাকে ২৬ মাস দায়িত্বহীন থাকতে হয়।

সিলেটবাসীর দাবি— নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মেয়াদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এটি কেবল আরিফুল হক চৌধুরীর প্রাপ্যই নয়, সিলেটের নাগরিকদেরও অধিকার। তৎকালীন প্রশাসকের চেয়ারে বসে যারা স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাদের আমলনামাও যেন আলোচনায় আসে।

সিলেটবাসী আশা করছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর এবার মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের হাল ধরবেন। তার হাতেই সিলেটের উন্নয়নের ধারা বেগবান হবে— এটাই সিলেটবাসীর প্রত্যাশা।

Nurul Haque Shipu
Reporter : Runner TV UK

শেয়ার করুন