শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: চিকিৎসক সংকটে ৩ লাখ মানুষের ভরসা হাসপাতাল নিজেই ‘রোগী’

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ২৬, ২০২৫ ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

তানিম আহমেদ, জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা, যেখানে সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে চিকিৎসক সংকট ও অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কারণে এটি যেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে।

উপজেলার কৃষি নির্ভর মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি বহু আগেই ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন পেয়েছিল। তবে লোকবল ও প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে এখনও এটি ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের ১৯৭ পদের বিপরীতে ৭১টি পদ শূন্য। জানা গেছে, হাসপাতালে কর্মরত থাকার কথা ২০ জন চিকিৎসকের, কিন্তু বর্তমানে সেখানে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে ৩ জন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত, ২ জন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত। ফলে কার্যত মাত্র ৩ জন চিকিৎসকই প্রতিদিন ৬০০-৭০০ রোগীর সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমনকি হাসপাতালের ৩২টি নার্স পদের মধ্যে ১৪টি শূন্য। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ১ জন। এ কারণে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও হাসপাতালটির পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের দুর্গন্ধ ও অপরিষ্কার পরিবেশ তাদের রোগ সারানোর পরিবর্তে আরও অসুস্থ করে তুলছে।

অন্যদিকে, একজন ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, অথচ তিনি নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন। এই ধরনের অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।

হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি চালক সংকটে ৪ বছর ধরে অচল। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ডাক্তারের অভাবে এটি কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৬০০-৭০০ রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ঔষধের অভাব ও চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম আব্দুল আহাদ বলেন, “সংকট মোকাবিলায় আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তবে জনবল ও সম্পদের অভাবে যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের মোট ১৯৭টি পদের মধ্যে ৭১টি পদ শূন্য রয়েছে। নার্সের ৩২টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১৪টি। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালটি কার্যত রোগী দেখভালের সক্ষমতা হারাচ্ছে।

উপজেলাবাসীর দাবি, এই সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য কর্মীর পদ পূরণসহ হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।জকিগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। জকিগঞ্জের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবার এ দুঃসহ অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে নতুন ডাক্তার নিয়োগ, পরিষেবা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপজেলাবাসী বলেন, “আমাদের একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যদি এভাবেই অচল হয়ে থাকে, তবে আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়িত হবে কীভাবে?” পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ছাড়া সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে আরও চরম সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন