৩ জানুয়ারি ২০২২, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
গোলজার আহমদ হেলালঃনগরীর আলুরতলে পিতা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মায়ের দায়েরকৃত মামলায় এখনো অভিযুক্ত আসামী সবুজ গ্রেফতার হননি।জানা যায়,ধর্ষণের ঘটনার পরে মামলা হওয়ার পূর্বে আলুতলের স্থানীয় এলাকাবাসী ধর্ষণকারীকে ধরে শাহপরান থানা পুলিশের হাতে তুলে দিলে পুলিশ ধর্ষণকারীকে ছেড়ে দেয়।এজন্য এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।স্থানীয় সাধারণ জনতা সভা,সমাবেশ ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।এলাকার স্হানীয় সুর্য সংঘ ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান, বিশিষ্ট মুরব্বি জামাল উদ্দিন ও যে ঘরে আসামী ভাড়া থাকতো সে ঘরের মালিক নজরুল ইসলাম
আসামীকে গ্রেফতারের জোর দাবী জানান।এব্যাপারে শাহপরান থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আলোকিত সিলেটকে বলেন,আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি।আমরা ভিকটিমের মেডিকেল করিয়েছি,তার জবানবন্দী রেকর্ড করানো হয়েছে।এখন আমাদের দুটো কাজ,অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণাদি ও তথ্য সংগ্রহ করা এবং আসামীকে গ্রেফতার করা।
এদিকে জানা যায়,ভিকটিম ও তাদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা ও মামলা পরিচালনায় কাজ করছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।সংস্থা’র বিভাগীয় সভাপতি মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ আকরাম আল সাহান জানান,এধরনের পাশবিক ঘটনার শিকার নিগৃহীত নারী ও শিশুদের পাশে আমরা বরাবরের মত এবারো দাঁড়িয়েছি।আমরা ভিকটিমকে আইনগত সহযোগিতা করব।
মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ আকরাম আল সাহান অতি শীঘ্রই পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর আলুরতলে বিগত ১৫ নভেম্বর ২০২১ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ২ঘটিকার সময় পিতা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিমের মা ফৌজিয়া বেগম তার স্বামী অভিযুক্ত সবুজের বিরুদ্ধে ২৭/১২/২০২১ইং তারিখে এস এম পি’র শাহপরাণ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। যার নাম্বার ২০/৩০৬ ।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর শাহপরান থানার আলুরতল ছড়ারপারস্থ এলাকায় মামলার বাদিনী ফৌজিয়া বেগমের ভাড়াকৃত বাসায় বিগত ১৫ নভেম্বর ২০২১ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ২ঘটিকার সময় ধর্ষনের এ ঘটনা সংঘঠিত হয়।এ ঘটনায় মেয়ের মা ইসলামপুর মেজরটিলা আলুরতল ছড়ারপার এলাকার মৃত শফিকুল ইসলামের কনে ফৌজিয়া বেগম (৩৫) বাদী হয়ে তার স্বামী ধর্ষিতা মেয়ের বাবা কোতোয়ালী থানার বারুতখানা উত্তরণ ১৮ নম্বর বাসার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নান উরফে লক্ষি মিয়ার ছেলে সবুজ আহমদ (৪০) কে আসামী করে শাহপরান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ফৌজিয়া বেগমের সাথে বিগত ১৩ বছর পূর্বে অভিযুক্ত সবুজ আহমদের বিবাহ হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে ৩জন কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। বিগত ২ বছর আগ থেকে ফৌজিয়া তার স্বামী অভিযুক্ত সবুজ ও তার সন্তানদের নিয়ে আলুরতল এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয় বিগত ১৯ নভেম্বর আনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত সবুজ তার এগারো বছর বয়সী বড় মেয়েকে নিকটস্থ চা বাগানে নিয়ে ধর্ষন করার চেষ্টা করেন।মেয়ে বাবার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে মায়ের কাছে এসে বিষয়টি জানায়। এবং মেয়ে মায়ের কাছে আরও উল্লেখ করে,তার বাবা বিগত ৬ মাস যাবত তাকে মায়ের অনুপস্থিতে ঘরে একা পেয়ে একাধিক বার ধর্ষন করেন। এ সময় মেয়ে বাবা কে বাধা নিষেধ করলে অভিযুক্ত পিতা সবুজ তার মেয়ে কে চড় থাপ্পড় মারিয়া বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয় ভীতি দেন। সর্বশেষ বিগত ১৫ নভেম্বর রাত ২ টার সময় তাকে ধর্ষন করে বলে মেয়ে তার মা কে জানায়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়েকে তার দাদীর নিকট রাখা হয়। পরবর্তীতে সেখানে নিরাপত্তার শঙ্কা অনুভব হলে মেয়েকে মায়ের পিত্রালয়ে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত পিতা কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মেয়ের মা কে সে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ও তালাক দেয়ার হুমকি দেয়। এমনকি অভিযুক্ত সবুজ ধর্ষিতা মেয়ে ও তার মা কে প্রাণে হত্যা করিবে বলে হুমকি দিতে থাকে।পরে ধর্ষিতা মেয়েকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি’তে প্রেরন করা হয়।