,

31 October 2026, 1:23 PM

উপহার : তুফ্ফাহুল জান্নাত মারিয়া

আপডেট টাইম : October 31, 2026 1:23 PM



শেয়ার করুন

আমার একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলেটা সাতদিন যাবৎ হারিয়ে গেছে।

বাচ্চা হারানোর পর জানি মনে মনে অনেকে তৃপ্ত হয়েছে এই ভেবে, এতদিন নিশ্চয়ই বেঁচে নেই। এমন বাচ্চা মরে গিয়ে মা-বাবাকে স্বস্তি দিয়ে গেছে।

ওর দাদু গেট খুলেছিলেন ফকিরকে ভিক্ষা দেয়ার জন্য কিন্তু গেট বন্ধ করতে আর মনে ছিল না৷ এরই ফাঁকে আমার আরাফ বের হয়ে গেছে।

আমি ওকে সারা ঘর পাগলের মত খুঁজলাম। ওয়াশরুম,কিচেন,ডাইনিং, বেডরুম কোথাও নেই। সিসিটিভিতে দেখা গেল গেটের বাইরে চলে গেছে।

তারপর খালি পায়েই গেট দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে গেলাম। বাসার কিছুদূর সামনেই একটা পুকুর। পানিতে থইথই করছে। পুকুর পাড়ে বসে আমি হাউমাউ করে কাঁদলাম। মায়ের মনে তখন নানান কুচিন্তা! আমার বাচ্চাটা কি পুকুরে পড়ে গেল? কেউ তাড়াতাড়ি ডুবুরি আনছে না কেন?

রাস্তা দিয়ে যে যায় তাকেই কান্না জড়ানো কণ্ঠে অস্ফুট স্বরে বলি,আমার বাচ্চা হারিয়ে গেছে। একটু খুঁজে দেন ভাই৷

রাস্তার অচেনা মানুষ এদিক ওদিক ছুটে গেল। ফ্ল্যাট থেকে প্রতিবেশীরা বের হয়ে এলো। আরাফের বাবাকে এরই মধ্যে কেউ ফোন দিয়ে জানিয়ে দিল। ওর বাবা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন। ওখান থেকেই খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত চলে এলেন৷

আমি তখন পাগলপ্রায়। আমার হাতে ওর খিঁচুনির ওষুধ। এই ওষুধ একেবারে ঠিক সময় খাওয়াতে হয়। আমার বাচ্চাটাকে কোন আসমান, জমিনে পাব আমি? কেউ বললো, কিডন্যাপ হয়েছে। কেউ বললো, ভিক্ষুকরা নিয়ে গেছে ওদের দলে। কেউ বললো, পুকুরে পড়েছে।

কিছুক্ষণের মধ্যে মাইকিং করা হলো। শাহবাগ থানায় জিডি করা হলো। ফেইসবুক গ্রুপগুলো ছেয়ে গেল নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে,সাত বছরের এক বাক প্রতিবন্ধী ছেলে হারিয়ে গেছে। খুঁড়িয়ে হাঁটে। পরনে নেভী ব্লু চেক প্যান্ট আর লাল গেঞ্জি। নাম,ঠিকানা কিছুই বলতে পারে না।

ডুবুরি আনা হয়েছে। তিনজন নামলো পুকুরে।
আমার ঘাড় তখন ব্যথা করছিল। বমি পাচ্ছিলো। মাথা ঝিমঝিম করছিল। রক্ত যেন তীব্র বেগে ছুটছে। লাফিয়ে লাফিয়ে প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে।

আর কিছুক্ষণ পর হয়ত কেউ একজন কোলে করে আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে আসবে। পানি খেয়ে ফুলে নিশ্চয়ই মরা মাছের মত ফ্যাকাশে হয়ে যাবে! হায় আল্লাহ! আর ভাবতে পারছি না আমি। চিৎকার দিয়ে চোখে অন্ধকার দেখলাম তারপর আর কিছু মনে নেই।

যখন জ্ঞান ফিরলো তখন আমি ল্যাব এইড হাসপাতালে দুইশো তিন নাম্বার কেবিনে। স্যালাইন চলছে। আমি কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করছি না। মনে হলো জিজ্ঞেস করলেই আমি একটা কঠিন সত্যের মুখোমুখি হব।

আমার আরাফ যার জন্য দিনরাত উজাড় করে দিয়েছি আমি৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজিতে অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছি। অনার্সে আমি ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড। অনায়াসে আমি একটা ভালো অবস্থানে যেতে পারতাম।

আমার মাস্টার্স শেষ করার আগেই আমার একই ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কামরুল হাসানের সাথে বিয়ে হলো। তিনি তখন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করেছেন। বিয়ের সাত মাসের মাথায় আরাফ গর্ভে এলো। আমি তখন রীতিমতো অসুস্থ। বেড রেস্টে থাকতে হয়।

আরাফের জন্মের পর ও কেঁদেছে দেরী করে। জন্মের পাঁচ দিনের মাথায় তীব্র খিঁচুনি শুরু হলো। এন.আই.সি ইউতে রাখা হলো। ইইজি,সিটিস্ক্যান করে জানা গেল ব্রেইনে জটিল কিছু সমস্যা আছে। সেই আরাফকে নিয়ে আমার যুদ্ধ শুরু হলো।

সারা রাত ও ঘুমাত না। টানা কেঁদেই চলতো। রাত তিনটা বাজলে আমি নিজেও হাউমাউ করে কাঁদতাম সামান্য একটু ঘুমানোর জন্য। না ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমার চেহার আর আয়নায় দেখার মত ছিল না। স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়ে গেল মারাত্মকভাবে। দুপুরেই মনে করতে পারতাম না সকালে খেয়েছি কিনা।

দুদিন পর পর বাচ্চাটাকে নিয়ে হাসপাতালে কাটাতে হত। আমার জীবন আর আমার রইলো না। এই অবস্থাতেও আমাকে শুনতে হয়েছে আমার যোগ্যতা আমি কাজে লাগাচ্ছি না। শুনতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রী নিছকই একজন হাউজওয়াইফ। সারাদিন আমি ঘরে বসে কী করি সেই জবাবও শ্বশুর বাড়ির মানুষের কাছে দিতে হয়েছে৷

আমাদের দেশের এক শ্রেণি নারীদের চাকরি করা নিয়ে খোঁটা দেয় অন্য শ্রেণি স্বামীর যোগ্যতা পরিমাপ করে স্ত্রীর চাকরি না করাকে নিয়ে খোঁটা দেয়। যে করেই হোক একজন নারীকে ছোট করেই তাদের প্রশান্তি।

আমি কখনও কারো সাথে তর্কে জিততে চাইনি৷ মনে হয়েছে কী লাভ এমন অযাচিত তর্ক করে যারা কিনা একজন নিষ্পাপ শিশুকে পাপের ফল মনে করে৷ তারা তো নিজেই পাপী। উনাদের কাছে নিজেকে ভেঙেচুরে উপস্থাপনের কিছু নেই তারা তো ভাঙার জন্যই এসেছে।

তবে ভাগ্যিস আমার স্বামীকে আমি পেয়েছিলাম জীবনে সবদিকের সহযোগী হিসেবে।

লোকে যখন ব্যাঙ্গ করে বলতো, আরেকটা বাচ্চা কবে হবে? এটার তো কোনো ভরসা নেই।

সেই জবাব কামরুল ভালো করেই দিত, আরেকটার ভরসা তাহলে আপনি দিচ্ছেন? আমার অসুস্থ বাচ্চাটার জন্য যাদের মন থেকে দোয়াও আসে না তারা আমার ভবিষ্যৎ চিন্তা কতটুকু করেন তা জানা হয়ে গেছে।

আমার সেই আরাফ হারিয়ে গেল। আমার যত্নে গড়া পুতুল। যাকে আমি চোখের আড়াল করিনি। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া বন্ধ করেছি।

কামরুল আমার কাছে এসে আমার হাত ধরলো। ওর মুখ শুকনো। চোখ লাল। ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো, পুকুরে ওকে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ অফিসারও চেষ্টা করছেন।
আত্মীয় -স্বজন সবাই মিলে খুঁজছে। ও পরিচিত কারো বাসায় গিয়ে উঠবে সেই সম্ভাবনা নেই। অতটুকু বুদ্ধি ওর নেই।

পুরো চব্বিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। আমার বাচ্চাটাকে পাওয়া গেল না।
হাসপাতাল থেকে বাসায় এসেছি। ওর জামা -কাপড়ের ঘ্রাণ নেই বসে বসে।

অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলে ভেতরটা ধক করে উঠে। কোনো সমস্যায় ডাক্তারের কাছে নিলে অনেক ডাক্তারই নির্বিকার ভঙ্গিতে বলতো, এসব বাচ্চারা বেশিদিন সার্ভাইভ করে না। তখন যেমন বুকের ভেতর ধক করে উঠতো ঠিক তেমন।

গুণে গুণে চারটা দিন চলে গেল। আমার চোখের পানিও বোধ হয় শুকিয়ে গেছে। কামরুল সারাদিন এদিক ওদিক ছুটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে না৷ ফোন এলেই রিসিভ করে ভাঙা গলায় জিজ্ঞেস করে, ওর কোনো খোঁজ পেলেন?

পঞ্চম দিন সকাল দশটায় শাহবাগ থানা থেকেই একটা ফোন এলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা সাত/আট বছরের বাচ্চার লাশ পাওয়া গেছে। লাশটা ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের চেহারা বিকৃত। লাশ শনাক্তের জন্য আমাদের যেতে হবে৷

এই সংবাদ শুনে কী আশ্চর্য আমি একটুও কাঁদতে পারলাম না! আমি কি পাগল হয়ে গেছি?
কামরুল তখন দেয়ালে মাথা ঠুকে ঠুকে কাঁদছে, আল্লাহ আমাদের এত বড় শাস্তি কেন দিলে? আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটা কার কী এমন ক্ষতি করলো?

আধা ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে গেলাম লাশ আনতে। সাদা কাপড়ে মোড়ানো। কাঁপা হাতে কাপড়টা সরালো কামরুল। অতি সাবধানে। ঠিক যেমন ঘুমন্ত শিশুর মুখের উপর থেকে মা-বাবা কাথা সরিয়ে দেয় যেন ঘুম না ভাঙে।

কাপড় সরানোর পর আমি চিৎকার করে উঠলাম, লাশের মুখটা বিকৃত। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম ওকে। উঁহু এটা আমার বাচ্চা নয়। আমার বুকের ভেতর হু হু করে উঠলো এই বাচ্চাটার মা-বাবার জন্য।

কামরুল বাসায় এসে দশ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করলো। যে আমার বাচ্চাটাকে পেয়েছে সে যদি ফেরত দেয় বিনিময়ে তাকে দশ লক্ষ টাকা দেয়া হবে।

আরও দুদিন কেটে গেল। নিজেকে একটা হাড্ডিসার কঙ্কাল মনে হচ্ছে। পানি ছাড়া আর কিছুই মুখে তুলতে পারছি না। আমার বাচ্চাটা যদি বেঁচে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই কিছু খেতে পারছে না। কারো কাছে চাইতেও পারছে না। ক্ষিধে পেলে ও কেবল প্লেট নিয়ে কিচেনে চলে আসতো। খাবার নষ্ট করতো বলে আমাকে সব সময় নিজ হাতেই খাওয়াতে হত।

সেদিন ছিল রবিবার। বিকেল চারটা। থানা থেকে ফোন এলো, আমার বাচ্চাকে পাওয়া গেছে জামালপুরের বেলটিয়া গ্রামে। ও সুস্থ আছে। ভালো আছে।

আমি পাগলের মত তখন হাউমাউ করে কাঁদছি। পৃথিবীতে নিজের সন্তান সুস্থ অবস্থায় বেঁচে আছে এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ দ্বিতীয়টা আর নেই।

আমরা তখনই মাইক্রো করে রওনা হলাম। সাথে আমার মা, দুই ভাই, আমার শ্বাশুড়িও ছিল।

এই পথ যেন আর শেষ হচ্ছে না। আমার হাত পা কাঁপছিল পুরো রাস্তা।
বেলটিয়া গ্রামে এর আগে কখনও আসিনি। মাইক্রো এসে থামলো এক পুরনো টিনের বাড়ির সামনে।

আমরা হুড়োহুড়ি করে নামলাম। গ্রামের আরও অনেক উৎসুক মানুষ ছিল। তাদের ভীড়ে দেখতে পেলাম আমার আরাফ লাউয়ের মাচার নিচে কাঠের একটা চেয়ারে বসে আছে।

আমি দৌড়ে চলে গেলাম। পৃথিবীতে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার আমার সামনে। দৌড়ে না গেলে যেন কেউ একজন নিয়ে যাবে। ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলাম। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে তখনও কাঁদছিলাম আমি।

ও কী করে এখানে এলো সেই প্রশ্নই একে অন্যকে করছিল।

সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন এই গ্রামের এক মুয়াজ্জিন, ঢাকা থেইকা কেমনে আইলো তা তো কইতে পারমু না। আমি ফজরের নামাজের সময় আজান দিতে গিয়া দেহি মসজিদের কাছে বরই গাছের নিচে বইসা কানতাছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম সাথে কেউ আছে নাকি। কাউরে পাইলাম না। দেহি কথাও কইতে পারে না৷ সাথে কইরা নিয়া আইলাম।

এই মানুষটা সাতদিন ধরে আমার বাচ্চাটাকে নিজের সন্তানের মত রেখেছে৷ নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে। গোসল করিয়েছে। থানায় গিয়ে খবর দিয়েছে কিন্তু থানার পুলিশরা নাকি বলেছে, এইসব বাচ্চা নাকি মা -বাবা ইচ্ছে করে ফেলে রেখে চলে যায়। অন্য সবাই এমনই ভেবেছিল।

কামরুল মুয়াজ্জিন ওমর ফারুককে জড়িয়ে ধরে বললো, আপনি আমার সন্তানকে সাতটা দিন দেখাশোনা করেছেন আমি আজন্মের ঋণী। আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম যার কাছে আমার বাচ্চা পাওয়া যাবে তাকে আমি দশ লক্ষ টাকা পুরস্কার দিব। দশ লাখ টাকার চেক আপনি রাখুন ভাই।

মুয়াজ্জিন ওমর ফারুক মৃদু হেসে বললেন,
না ভাই, এইটা আমার ঈমাণী পরীক্ষা ছিল হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেইকা। কারো জীবনে শ্রেষ্ঠ আমানত আমার কাছে দিছে আমি ক্যান তার যত্ন করমু না?

আমি অনেক গরীব একজন মানুষ। দশ লাখ টাকা পাইলে আমার অবশ্যই উপকার হয় কিন্তু আমি এক টাকাও যদি ছুঁইয়া দেখি আল্লাহ নারাজ হবেন৷ কোনো কিছুর বিনিময়ে তো আমি ওর দেখাশোনা করি নাই।

আমরা ঠিকভাবে খাইতে পারি না তবুও চেষ্টা করছি বাচ্চাটারে ভালো খাওন দিতে। আমার বউ আর মেয়েটাও ওর যত্ন করছে। আমি গতকালই আবার থানায় গেছিলাম যে কোনো খোঁজ পাওয়া গেল কিনা।

আমরা ওমর ফারুক ভাইয়ের বাসায় ছিলাম তিন ঘণ্টার মত। তারা আমাদের জন্য রান্নাবান্না করলেন। নিজেদের পালা মুরগী জবাই দিলেন। মাছ দিয়ে লাউয়ের তরকারি রান্না করলেন। ডিম ভুনা করলেন। কয়েক রকম ভাজি, ভর্তা ছিল।

ওমর ফারুক সাহেবের স্ত্রীর হাত ধরে আমি বললাম, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ আপনাদের কাছে ছিল আমরা কোনোদিন এই কথা ভুলবো না।

ওমর ফারুক সাহেবের স্ত্রী শুধু একটা অনুরোধ করলেন, আমি বাবুরে নিজ হাতে একটু খাওয়াই দেই। ও তো আজ চইলাই যাইবো৷ উনার চোখ ছলছল করছিল।

ওমর ফারুক সাহেব ওর মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন। মুখে হাসি আর চোখের কোনে তৃপ্তির জল নিয়ে আমাদের বিদায় জানালেন।

আমরা তাদের আমাদের বাসায় দাওয়াত দিয়ে গ্রামবাসীর কাছে চিরকৃতজ্ঞতা নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। পুরো রাস্তা আমি আমার বাচ্চাটাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখলাম। ও একটা বিড়াল ছানার মত চুপ করে বসে রইল।

হজ্জ্বের মৌসুম চলে এসেছে। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত চারদিক৷ আলো ঝলমলে শহর। পবিত্রতা ভ্রাতৃত্ব আর রবের সান্নিধ্য এখানে মিলেমিশে একাকার।

সবার এখানে আসার সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। কাবা ঘরের গিলাফ ধরে কাঁদছে কতজন! তাদের মধ্যে দুজন ছিল ওমর ফারুক এবং তার স্ত্রী করিমুন্নেছা।

আজীবন শুধু সে দোয়া করে গেছে আল্লাহর ঘর যদি সে দেখতে পেত! কখনও ভাবেনি একজন লেকচারার সেই ব্যবস্থা করে দেবেন।

হজ্জ্ব করতে যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ওমর সাহেবকে দাওয়াত দিতেন বাসায় দোয়া করার জন্য। তিনি খুশিমনে তাদের জন্য দোয়া করতেন সাথে মনে মনে বলতেন, কোনোদিন যদি তোমার ঘরে আমিও যদি যাইতে পারতাম!

অসহায়, দরিদ্র একজন মুয়াজ্জিনের আজীবনের স্বপ্ন কী হতে পারে তা কামরুল হাসানের বুঝতে বাকি থাকেনি। তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ সে আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছিল তাই সেও চেষ্টা করলো সেই আমানকারীদের একটা উপহার দেয়ার জন্য। এই উপহার তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ এক উপহার।

তুফ্ফাহুল জান্নাত মারিয়া
শিক্ষক, লেখক,গল্পকার,কথাসাহিত্যিক
প্রাক্তন শিক্ষার্থী-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (উদ্ভিদ বিদ্যা)

শেয়ার করুন