,

2 May 2025, 10:22 PM

পাথর কোয়ারীতে হরিলুট চলছে: এডভোকেট আব্দুল আহাদ

আপডেট টাইম : May 2, 2025 10:22 PM



শেয়ার করুন

নাহিম মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে বেষ্টিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিদর্শন করেছেন বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার, ২ মে, সিলেট শহর থেকে সকাল ৯টায় তারা এ সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচুর্য ও খনিজ সম্পদে ভরপুর সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে নিয়ে গঠিত বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদ। বৃহত্তর জৈন্তার উন্নয়নে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজকের সফরে তারা সাদাপাথর, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে, হাইটেক পার্ক, কাটাখাল পরিদর্শন করেন এবং উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সফরকালে সাদাপাথর নৌকাঘাট থেকে নৌকায় চড়ে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) পরিদর্শন করেন নেতৃবৃন্দ। সেখানে তারা পাথরের লুটপাটের চিত্র স্বচক্ষে দেখেন। পরে সাদাপাথর স্পটে গিয়ে সারিবদ্ধ সাদাপাথর, স্বচ্ছ জলরাশি ও পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেন।

এ সময় বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল আহাদ বলেন, “আজকের সফরে আমরা প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি। তবে দুঃখজনক হলো, বাংলাদেশের এ আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ নেই। আমরা দ্রুত এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় দেখেছি, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে (বাংকার) এলাকায় পাথর হরিলুট চলছে এবং ধলাই সেতু হুমকির মুখে। আজ আমরা নিজ চোখে দেখলাম, দিনদুপুরেও এ লুটপাট অব্যাহত আছে, কিন্তু প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই।”

পরিষদের সদস্য সচিব ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমেদ হেলাল বলেন, “প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ হলেও আজকের সফর ভিন্ন ছিল। বৃহত্তর জৈন্তিয়ায় প্রাচুর্য থাকলেও উন্নয়নের ছোঁয়া খুবই কম। এখানে গ্যাস উৎপাদন হলেও ঘরে ঘরে তা পৌঁছায়নি। ভোলাগঞ্জের পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় পাহাড়ি ঢলে পাথর নেমে ধলাই নদীর উৎসমুখ ভরাট হয়ে গেছে, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিলেটের কোয়ারীগুলো খোলার আশ্বাস দেওয়া হলেও লিজ বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় মানুষ হতাশ। আমরা দ্রুত কোয়ারী খোলা, বৃহত্তর জৈন্তিয়ায় গ্যাস সংযোগ প্রদানসহ আমাদের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

সাদাপাথর সফর শেষে নেতৃবৃন্দ কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর টুকেরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে মুসল্লিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের ১০ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে মেজবান রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজ করেন।

পরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান মিন্টু, কোম্পানীগঞ্জ সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল ও মেজবান রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী নবী হোসেনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল মনসুর চৌধুরী সাজু, মাস্টার আবুল খায়ের, ডাক্তার মুনতাজিম আলী, হাফিজ নিজাম উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাঈম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া নেতৃবৃন্দ সালুটিকর গোয়াইনঘাট রাস্তা পরিদর্শন করেন। ভাঙাচোরা এ রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তারা। পথচারী ও যাত্রীরা জানান, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

নেতৃবৃন্দের কাছে সংগঠনটি গঠনের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী আগে গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও জৈন্তিয়ার ঘরে ঘরে এখনো গ্যাস সরবরাহ হয়নি। বিগত সময়ে সিন্ডিকেটের কারণে পাথর কোয়ারী বন্ধ রয়েছে, শ্রমিকরা কষ্টে জীবনযাপন করছে। অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় সড়কগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। বৃহত্তর জৈন্তিয়ায় গ্যাস সংযোগ, পাথর কোয়ারী খোলা, পর্যটন এলাকা ঘোষণা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ন্যায্য দাবি আদায়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতেই এ পরিষদ গঠিত হয়েছে।”

শেয়ার করুন