২৫ মে ২০২৫, ৪:২১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এমন একটি নির্বাচন হবে যেখানে একটি ইতিহাস তৈরি হবে। গতকাল (২৪ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রবিবার (২৫ মে) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দখিনা দাওয়া সেন্টারে চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রত্যেক মানুষ হাসিমুখে ভোট দিয়ে বের হবে। কেউ দেখবে না যে, একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে এসেছে। ভোট হবে স্বচ্ছ, কোন ধরনের কারচুপি হবে না।”
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নানা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মানবিক করিডোর না দেয়ার বিষয়ে সরকারকে তাদের অবস্থান জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে সকল নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে। চা শ্রমিকদের দায়িত্বও সরকারকে অন্যান্য নাগরিকদের মতো সমানভাবে নিতে হবে। তারা এখনও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা যদি জনগণের ভোটে দায়িত্ব পাই, তাহলে তাদের সম্মানের সঙ্গে বসবাস নিশ্চিত করব।”
তিনি আরও বলেন, “চা শ্রমিকদের শিক্ষিত করে আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা আমাদের রয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে আমরা কাউকে বিবেচনা করি না। আমরা একটি বন্ধুপ্রতিম সমাজ গড়তে চাই।”
উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মুন্তাজিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরীর আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর প্রকৌশলী এম. সায়েদ আলী, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ইয়ামীর আলী, বড়লেখা-জুড়ী আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট আব্দুর রব, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর খন্দকার আব্দুস সোবহান ও প্রভাষক হামিদ খান, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে সকাল দশটায় ১০০০ মহিলার উপস্থিতিতে মহিলা সমাবেশ, মৌলভীবাজার জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের ১৩০০ জন প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন এবং শমশেরনগর, শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নে মতবিনিময় ও পথসভা উল্লেখযোগ্য। কুলাউড়া উপজেলায় তার দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।