31 January 2026, 3:29 PM
উজ্জল আহমদ
চেনা বামনের পৈতা লাগে না। বৃক্ষ, তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়। এই দুই প্রবাদ বাক্যের বাস্তব প্রতিফলন মনে হচ্ছে জননেতা জনাব আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটিকে বদলে দেওয়ার তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষ আজও মুগ্ধ। তাই আরিফুল হক চৌধুরীর নতুন গন্তব্য শহর থেকে কিছুটা দূরে সংসদীয় আসন ২৩২ সিলেট–৪ (জৈন্তা, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ),আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর হয়ে লড়বেন আরিফুল হক চৌধুরী।
এই আসনে তিনি নতুন এলেও তাকে এখানে একদম নতুন মনে হয়নি কারও। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে গ্রহণ করে নিচ্ছেন। এক কথায়, আরিফুল হক চৌধুরী সম্পর্কে সবার একই মন্তব্য,আরিফুল হক কাজের মানুষ।
প্রতিকূল পরিবেশে দুই-দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ দিন (২ বছরের বেশি) কারাবন্দী থেকেও তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। শুধু মেয়রই নয়, এর পূর্বে ২০০৩ সালে আরিফুল হক চৌধুরী কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে এই আসনে দলের প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দিলদার হোসেন সেলিম সাহেবের সহধর্মিণী জেবুন নাহার সেলিম, সিলেট জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী,স্বেচ্চাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান এবং সিলেট জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা, লন্ডন প্রবাসী মো. হেলাল আহমেদ।
দলের সিদ্ধান্ত মেনে সকলেই আরিফুল হক সাহেবকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।এই আসনে তাঁর বিরোধী প্রতিপক্ষ হিসেবে যাদের নাম বেশি আলোচনায় ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কেন্দ্রীয় জমিয়তের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আলী। কিন্তু বিএনপি–জমিয়ত জোট হওয়ায় তিনিও আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আলেম উলামা অধ্যুষিত এই অঞ্চলে এটি আরিফুল হক চৌধুরীর জন্য বিশাল একটা প্লাস পয়েন্ট।
তাছাড়া আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামী সিলেট জেলা শাখার সেক্রেটারি, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমেদ,জাপার সাংবাদিক মুজিবুর রহমান ডালিম,গণঅধিকারের জহিরুল ইসলাম। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুফতি আলি হাসান ওসামা,এনসিপি’র প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম এগারো দলের প্রার্থী কে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। জনাব জয়নাল আবেদিন জোটের এমপি পদপ্রার্থী।এখন মুলত লড়াই হবে আরিফ বনাম জয়নাল।
জয়নাল আবেদিন সাবেক দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তিনি কোনো নির্বাচনই জামায়াতের ব্যানারে করেননি। প্রথমবার ২০০৯ সালে সর্বদলীয় ব্যানারে নির্বাচন করেন,সেই নির্বাচনে সকল দলের মানুষ তাঁর পক্ষে কাজ করেন। দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালে তিনি ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তখন জোটের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতা, ফতেহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মতিন তাঁকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
এখন দেখার পালা নিজ দলের ব্যানারে, দলের প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি কতটা সফল হতে পারেন, যদিও এখানে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা এতটা সমৃদ্ধ নয়।
পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন সাংবাদিক মুজিবুর রহমান ডালিম। তাছাড়া গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জহিরুল ইসলাম।
সিলেট–৪ আসনে বিগত লীগ শাসনামলে আশানুরূপ কোনো উন্নয়ন হয়নি। এক্ষেত্রে সাধারণ জনমনে ভাবনা, অভিজ্ঞ ও কাজপ্রিয় আরিফুল হক নির্বাচিত হলে তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবেন।এরকমটা হলে বিএনপি’র বিপুল দলীয় সমর্থন, সাধারণ জনগণের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা, জমিয়তের সমর্থন সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে এই রেসে আরিফুল হক অনেকটা এগিয়ে।
বলা যায়, আরিফুল হক চৌধুরীর বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
লেখক:উজ্জল আহমদ (মালেশিয়া প্রবাসী, সিলেট-৪ এর বাসিন্দা)